1. admin@happinesstvbd.com : admin :
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ১১:২২ অপরাহ্ন

নারীদের হরমোনাল অসামঞ্জস্য কি এবং কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১
  • ৪৬ জন দেখেছেন

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) হল নারীদের মধ্যে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) এর মাত্রা বেড়ে যাবার জন্য কিছু উপসর্গের সমাহার।ফলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন হ্রাস পায় এবং অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) বৃদ্ধি পায়। নারীদের প্রজনন সময়কালে মূলত এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তবে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে রোগটি বেশি হয়।

লক্ষণ
অনিয়মিত অথবা দীর্ঘকালীন ঋতুস্রাব ও দীর্ঘকালীন মাসিক রক্তক্ষরণ।
ওজনাধিক্য বা মুটিয়ে যাওয়া (৮০ শতাংশ বা তার অধিক ক্ষেত্রে)।
অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) নিঃসরণ।
ব্রণ, আঁচিল। মুখ, গলা, বুক, পিঠে অবাঞ্ছিত লোম।
ত্বকের বিভিন্ন অংশ যেমন গলা, ঘাড়, স্তন ও বগলে কালচে ভাব।
চুল পড়ে পাতলা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কারণ
জেনেটিক : এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ না থাকলেও কিছু কারণকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম জেনেটিক বা বংশগত। পরিবারের কোনো সদস্যের, বিশেষ করে মা অথবা বোনের এই রোগ থাকলে তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছু বেশি থাকে।

ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স : ইনসুলিন এক প্রকার হরমোন, যা দেহেই উৎপন্ন হয়। প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে এই ইনসুলিন। কিন্তু যখন দেহের কোষগুলো ইনসুলিনকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে না, তখন দেহে ইনসুলিনের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। ইনসুলিন ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে তা অ্যান্ড্রোজেনের (পুরুষ হরমোন) উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ নারীরই পিসিওএস ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্ট।

যেসব জটিলতা হতে পারে
প্রজনন সমস্যা : গর্ভধারণের জন্য প্রয়োজন ওভুলেশন (ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রক্রিয়া)। যেসব নারীর অতিরিক্ত মাত্রায় পুরুষ হরমোন নিঃসৃত হয়, তাদের ওভুলেশনচক্র ব্যাহত হয়।

মেটাবলিক সিনড্রোম : পিসিওএসে আক্রান্ত হওয়ার দরুন ৮০ শতাংশের অধিক নারী মুটিয়ে যাওয়া বা স্থূলতায় ভোগেন। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া থেকে শুরু করে এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচডিএলের মাত্রা কমে যাওয়া জনিত নানা সমস্যা হতে পারে।
ক্যানসার : প্রতি মাসে ওভুলেশন না হওয়ার কারণে ইউটেরাসের সংযোগে এপিথেলিয়ামের পুরুত্ব বেড়ে যায়। ফলে ইউটেরাসে ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

নিদ্রাহীনতা, বিষণ্নতা : দুশ্চিন্তা, অতি উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে। নিদ্রাহীনতা হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি : পিসিওএসের জটিলতা নিরসনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি সঠিক ও সুষম খাবার খাওয়া উচিত। অস্বাস্থ্যকর বা খোলা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। দুগ্ধজাত ও চিনিযুক্ত খাবার যত সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ : কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খেলে দেহের ওজনের সমতা বজায় থাকে। তখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। লো-গ্লাইকেমিক ইনডেক্স ডায়েট (ফলমূল, শাকসবজি ও শস্য থেকে যেসব কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়) মেনে চললে ঋতুস্রাবচক্রে সাহায্য করে। ভালো হয় একজন দক্ষ পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হয়ে পরিপূর্ণ খাদ্যতালিকা মেনে চলতে পারলে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ : সঠিক মাত্রার ওজন বজায় রাখলে ঋতুচক্র স্বাভাবিক থাকে। অতিরিক্ত ওজন কমালে কোলেস্টেরল ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তখন হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম : সপ্তাহে কমপক্ষে তিন-চার দিন ব্যায়াম করলে ডিম্বচক্রের যথেষ্ট উন্নতি হয়। এতে সঠিক ওজন বজায় থাকে এবং ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাস পায়, পিসিওএসের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ : অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের একমাত্র উপায় হচ্ছে লেজার হেয়ার রিমুভাল। কোনোভাবেই অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে হেয়ার রিমুভ করা উচিত নয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে উন্নতমানের লেজার হেয়ার রিমুভাল ডিভাইসের মাধ্যমে চিকিৎসা হতে পারে।

চিকিৎসা
সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রোগটি শনাক্ত করতে পারলে পিসিওএস এবং এর জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরীর আরো নিউজ
© All rights reserved © 2019-happinesstvbd.com
Develper By : Porosh Network Ltd